Latest News:

KEDAR INFO SERVICE (PRIVATE COMPUTER TRAINING, SERVICE, MOBILE REPAIR TRAINING, VIDEO MIXING TRAINING, ONLINE MOBILE-DTH RECHARGE (ALL INDIA) *** Mobile : 9647225226 ***** Contact For : Blog-Website Design and "ADVERTISE"

Welcome to

Welcome to
WELCOME to All My Blog Visitors!!! এই ব্লগ দেখার সময় সাউন্ড সিস্টেম অন করুন.. এই ব্লগ দেখতে দেখতে আপনারা বাংলা এফ রেডিও চ্যানেল থেকে সরাসরি গান শুনতে পাবেন.... ব্লগ ডিজাইন ও বিজ্ঞাপনের জন্য আজই যোগাযোগ করুন.... ভিডিও এডিটিং সফ্টওয়্যার (পিনাকেল, এডোব প্রিমিয়ার ও এডিয়াস ডঙ্গল) আপনার প্রয়োজন............ মোবাইল-ডিটিএইচ রিচার্জ এজেন্সী নিতে চান........ এস্ট্রোলজি সফ্টওয়্যার (কোষ্ঠী বিচার) আপনার প্রয়োজন... এছাড়া কম্পিউটার সফ্টওয়্যার-কম্পিউটার টিপস..রোজগার বিষয়ক তথ্য জানতে আমাকে ই-মেল করুন... সবাইকে আমার পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।সবার প্রতিটি দিন ভাল মত কাটুক এই কামনা করি
Showing posts with label Success Life Story. Show all posts
Showing posts with label Success Life Story. Show all posts

Thursday, 19 May 2016

=> ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরের রাত।


নিউজার্সির অরেণ্জ শহরে -একটি ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার। ফ্যাক্টরীর মালিক বলতে গেলে তাঁর জীবনের সমস্ত সন্চয় ব্যয় করেছেন ফ্যাক্টরিটি তৈরীর পেছনে। মালিক ফ্যাক্টরীর বাইরে দাঁড়িয়ে আগুনের শিখা দেখছেন। আর মিটিমিটি হাসছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ২৪ বছরের ছেলে চার্লস। ভদ্রলোক, ছেলেকে হাসতে হাসতে বললেন- যা তোর মাকে তাড়াতাড়ি ডেকে নিয়ে আয়। এমন সুন্দর আগুন একসাথে দেখার সৌভাগ্য মানুষের খুব কমই হয়। মা এসে দেখলেন- তার স্বামীর মুখে হাসি আর পুত্রের চোখে কান্না।
পরদিন ভোরে স্বামী আর স্ত্রী একসাথে হাঁটতে বেরিয়েছেন। একসময় স্ত্রী স্বামীকে বললেন- শুধু তোমার ফ্যাক্টরীই পুড়েনি, তোমার সারা জীবনের সন্চয়ও একসাথে পুড়ে ছাই, ভস্ম হয়ে গেছে। তোমার বিশ্বাস ছিলো ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণরুপে ফায়ারপ্রুফ। কোনোদিন আগুনে কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। তাই ভালোভাবে ইন্সুরেন্স না করায় কোনো টাকাও ফেরত পাবেনা। এসব কিছু জানার পরও তুমি এরকম শিশুর মতো হাসছো?
ভদ্রলোক বললেন- কারখানা পুড়েছে কই? আমিতো কোথাও কোনো পুড়া কারখানা দেখলাম না। তবে হ্যাঁ, দেখেছি শুধুই আগুণ।
তোমার কি রাতে ভালো ঘুম হয়নি?সবকিছু হারিয়ে তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? নিজের চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলে পুড়ে ছাই, ভস্ম হয়ে গেলো পুরো একটা কারখানা। আর তুমি বলছো-কোনো কারখানাই পুড়েনি। তুমি ঠিক আছোতো?
হ্যাঁ, রাতে খুব শান্তির ঘুম হয়েছে। আমিও পুরোপুরিই ঠিক আছি। আর ঠিক আছি বলেই বুঝতে পারছি- আগুনে কোনো কারখানা পুড়েনি, পুড়েছে শুধু আমার অহঙ্কার, পুড়ে শেষ হয়ে গেছে আমার জীবনের সব ত্রুটি,বিচ্যুতি আর ভুল। একটা কারখানা পুড়েছে, আরেকটা কারখানা তৈরী হবে তাতে কোনো দুঃখ নাই। তারচেয়ে বরং খুশী এই জন্য যে- আমার অহঙ্কার, ত্রুটি, বিচ্যুতি সব পুড়ে গিয়ে স্রষ্টা আমাকে নতুনভাবে আবারো জীবন শুরু করে দেয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
ফ্যাক্টরীর মালিক এই ভদ্রলোক ছিলেন পৃথিবীর পাঁচজন সেরা বিজ্ঞানীর একজন টমাস আলভা এডিসন। আর যখন তিনি নতুন করে পুনরায় জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, তখন তাঁর বয়স ছিলো ৬৭। উদ্যম, প্রেরণা আর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরায় জীবন শুরু করার মতো মোটিভেশনের এমন অনুপম দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে?

=> Success Life Story : ব্যতিক্রমী সফল উদ্যেক্তা ওয়ারেন বাফেট


একজন ব্যতিক্রমী বিশ্ব ব্যক্তিত্ব। জীবনের শুরুতে ছিলেন হকার। বিক্রি করেছেন সংবাদপত্র। এক সময় মুদি দোকানেও কাজ করতেন এ উদ্যোক্তা। বর্তমানে ৬৩টি কোম্পানির মালিক। পৃথিবীর দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী হওয়া সত্বেও তার মধ্যে নেই কোন বিলাসিতা। ওয়ারেন বাফেট নাম তার।

সমপ্রতি তিনি সিএনবিসি-কে এক ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তুলে ধরেছেন জীবনের উত্থান কাহিনী। তার মতে, জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য নিজেকে আগে স্থির করতে হয় তার লক্ষ্য। তিনি এমনই এক লক্ষ্য নিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে প্রথম শেয়ার কিনেছিলেন। তারপরও তিনি মনে করেন এ ব্যবসায় আসতে তার অনেক দেরি হয়ে গেছে। আরও আগে ব্যবসা শুরু করা উচিত ছিল। তাই তার পরামর্শ আপনার সন্তানকে বিনিয়োগে উৎসাহিত কর্বন। সংবাদপত্র বিক্রি করা অর্থ দিয়ে তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছোট্ট একটি ফার্ম কেনেন। তার মতে, অল্প অল্প করে জমানো অর্থ দিয়ে যে কেউ কিনতে পারেন অনেক কিছু। সেজন্য সন্তানদের তিনি কোন না কোন ব্যবসায় নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন।

১৯৩০ সালের ৩০শে আগস্ট নেবরাসকা’র ওমাহা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য ব্যক্তি। তার পিতার নাম হাওয়ার্ড বাফেট। ওয়ারেন হলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। শৈশবে কাজ করেছেন মুদির দোকানে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তিনি জমা দেন আয়কর রিটার্ন। সেখানে তিনি নিজেকে সংবাদপত্র বিলিকারী হিসেবে পরিচয় দেন। তার পিতা হাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর তিনি পড়াশোনা করেন ওয়াশিংটনের উডরো উইলসন হাই স্কুলে।

১৯৪৫ সালে তিনি হাই স্কুলে থাকতেই এক বন্ধুর সঙ্গে ব্যবহার করা একটি পিনবল মেশিন কেনেন মাত্র ২৫ ডলারে। মেশিনটি বসানোর মতো জায়গা ছিল না তাদের। তারা এক নাপিতের দোকানের ভেতরে তা বসিয়ে দিলেন। এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তারা বিভিন্ন স্থানে বসালেন একই রকম তিনটি মেশিন। এভাবেই তার ব্যবসায় যাত্রা শুরু। তিনি ১৯৫০ সালে ইউনিভার্সিটি অব নেবরাসকা থেকে অর্থনীতিতে অর্জন করেন বিএস ডিগ্রি। ১৯৫১ সালে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে এমএস হন। ১৯৫১ থেকে ’৫৪ পর্যন্ত বাফেট-ফক অ্যান্ড কো.-তে ইনভেস্টম্যান সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন।

USAনিউ ইয়র্কে গ্রাহাম-নিউম্যান করপোরেশনে সিকিউরিটি এনালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫৪ থেকে ’৫৬ পর্যন্ত। এছাড়া তিনি বাফেট পার্টনারশিপ লি., বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করেছেন। এর বেশির ভাগই তার নিজের। ১৯৬২ সালে তিনি পরিণত হন মিলিয়নিয়ারে। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হলো একটি টেক্সটাইল কারখানা। এখানকার প্রতিটি শেয়ার তিনি ৭.৬০ ডলারে জনগণের মাঝে ছেড়ে দেন। এক পর্যায়ে ১৯৬৫ সালে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানি ১৪.৮৬ ডলার দেয়। এর মধ্যে ফ্যাক্টরি এবং সরঞ্জাম দেখানো হয়নি। এরপর তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেন চেস-এর নাম ঘোষণা করেন।

১৯৭০ সালে তিনি শেয়ার হোল্ডারদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত চিঠি লেখা শুর্ব করেন। শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এ চিঠি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। এ সময়ে বেতন হিসেবে তিনি বছরে পেতেন ৫০ হাজার ডলার। ১৯৭৯ সালে তার বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে প্রতি শেয়ারের জন্য ৭৭৫ ডলার দিয়ে ব্যবসা করতে থাকে। এই শেয়ারের দাম ১৩১০ ডলার পর্যন্ত ওঠে। এ সময়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬২ কোটি ডলার। এর ফলে ফরবিস ম্যাগাজিনে প্রথমবারের জন্য তিনি ফরবিস ৪০০-তে স্থান পান। ২০০৬ সালের জুনে তিনি ঘোষণা দেন যে, তিনি বার্কশায়ার হোল্ডিংয়ের শতকরা ৮৫ ভাগ বার্ষিক উপহার হিসেবে পাঁচটি ফাউন্ডেশনে দিয়ে দেবেন এবং তা শুরু হবে জুলাই থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয়া হয় বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে।

২০০৭ সালে তিনি শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে এক চিঠিতে জানান, শিগগিরই তিনি একজন তরুন উত্তরসূরি নিয়োগ দিতে লোক খুঁজছেন। ২০০৮ সালে তিনি বিল গেটসকে হটিয়ে নিজে হন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী। ফরবিসের মতে, তখন তার সম্পদের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তবে ইয়াহু’র মতে তার তখনকার সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এর আগে পর পর ১৩ বছর ফরবিস ম্যাগাজিনের হিসাবে বিশ্বের এক নম্বর ধনী ছিলেন বিল গেটস। এর পর ২০০৯ সালে গেটস তার শীর্ষস্থান পুনর্বদ্ধার করেন। দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন ওয়ারেন বাফেট। ২০০৮ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে ওয়ারেন বাফেট লোকসান করেছেন ১২০০ কোটি ডলার।

জীবন যাপন করেন অতি সাধারণ মানের। ৫০ বছর আগে বিয়ের পরে ৩ বেডরুমের যে বাড়িটি কিনেছিলেন এখনও সেখানেই বাস করেন। এমনকি বাড়িটির চারপাশে নেই কোন আলাদা প্রাচীর। তিনি বলেন, আমার যা কিছু দরকার তার সবই আছে এখানে। বিশ্বের এত বড় ধনী, তার বাসার চারদিকে নেই কোন বেড়া বা সীমানা প্রাচীর। এ বিষয়ে তার পরামর্শ হলো- প্রকৃতপক্ষে আপনার যতটুকু দরকার তার বেশি কিছু কিনবেন না। আপনার সন্তানদেরও এমনটা ভাবতে ও করতে শেখান। নিজের গাড়ি তিনি নিজেই চালান। তার আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেট কোম্পানি। কিন্তু ভ্রমণ করেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইকোনমিক ক্লাসে। অনেকেই ভাবতে পারেন, এটা অসম্ভব। কিন্তু তিনি তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

১৯৫২ সালে ওয়ারেন বাফেট বিয়ে করেন সুসান থম্পসনকে। তাদের রয়েছে তিন সন্তান- সুসান বাফেট, হাওয়ার্ড গ্রাহাম বাফেট এবং পিটার বাফেট। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে স্ত্রী সুসান মারা যান। এর আগে ১৯৭৭ সাল থেকে তাদের বিচ্ছেদ না ঘটলেও তারা আলাদা বসবাস করতেন। তাদের মেয়ে সুসান ওমাহাতে বসবাস করেন। তিনি সুসান এ. বাফেট ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে সেবামূলক কাজ করেন। ওয়ারেন বাফেট ২০০৬ সালে ৭৬তম জন্মদিনে বিয়ে করেন তার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী অ্যাস্ট্রিড মেনঙকে। ২০০৬ সালে ওয়ারেন বাফেটের বার্ষিক বেতন ছিল ১ লাখ ডলার। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তার বেতন বেড়ে হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। ওমাহা এলাকার ডান্ডিতে তিনি ৩১ হাজার ৫০০ ডলার দিয়ে বর্তমান বাড়িটি কিনেছিলেন। এর বর্তমান দাম ৭ লাখ ডলার। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার লেগুনা বিচে রয়েছে তার ৪০ লাখ ডলার দামের একটি বাড়ি।

তিনি খুব ভাল তাস খেলতে জানেন। তাস খেলেন শ্যারন ওসবার্গ ও বিল গেটসের সঙ্গে। সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা কাটে তার তাস খেলে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে খবর প্রকাশিত হয় যে, ওয়ারেন কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তাছাড়া তার ডেস্কে নেই কোন কম্পিউটার। তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এখন ৬৩টি কোম্পানির মালিক। এসব কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অফিসারকে তিনি বছরে মাত্র একটি চিঠি লেখেন। তাতে সারা বছরের কর্মকৌশল বলে দেয়া থাকে। নিয়মিত তাদেরকে নিয়ে তিনি মিটিং করেন না। এজন্য তার পরামর্শ হলো- ঠিক জায়গায় ঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত কর্বন। অর্থাৎ ঠিক জায়গায় ঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হলে তাকে কাজের কথা বলে দিতে হয় না। ওয়ারেন বাফেট তার নির্বাহীদের দু’টি মাত্র নিয়ম বলে দিয়েছেন। তার প্রথমটি হলো- শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ নষ্ট করো না। দ্বিতীয় নিয়মটি হলো- প্রথম নিয়মকে ভুলে যাবে না। লক্ষ্য স্থির করো এবং সেদিকে লোকের দৃষ্টি কাড়তে চেষ্টা করো।

তার জীবনধারাকে স্পর্শ করেনি সমাজের উচ্চশ্রেণীর সামাজিকতা। তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করেন। কিছু পপকর্ন নিজেই প্রস্তুত করে খান এবং বাসায় বসে টেলিভিশন দেখেন। তার সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিল গেটসের পরিচয় হয় মাত্র ৫ বছর আগে। তখনও বিল গেটস জানতেন না যে, ওয়ারেনের সঙ্গে তার অনেকটাই মিল আছে। ফলে মাত্র আধা ঘণ্টা পর তিনি ওয়ারেনের সঙ্গে দেখা করেন। যখন ওয়ারেনের সঙ্গে তার দেখা হয় তা স্থায়ী হয়েছিল দশ ঘণ্টা। এর পর থেকেই তার ভক্ত হয়ে যান বিল গেটস।

যুব সম্প্রদায়ের জন্য ওয়ারেন বাফেটের পরামর্শ হলো- ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক লোন থেকে দূরে থাকুন। নিজের যা আছে তাই বিনিয়োগ করুন। মনে রাখবেন- ক) টাকা মানুষ সৃষ্টি করে না। কিন্তু মানুষ টাকা সৃষ্টি করে। খ) যতটা সম্ভব জীবনধারাকে সহজ-সরল করার চেষ্টা করুন। গ) অন্যরা যা বলে তাই করবেন না। তাদের কথা শুনুন। তারপর আপনার যা ভাল মনে হয় তাই করুন। ঘ) অপ্রয়োজনীয় কোন বিষয়ে অর্থ খরচ করবেন না। ঙ) জীবন আপনার। সেজন্য আপনার জীবনকে চালাতে অন্যদের কেন সুযোগ দেবেন?

=> স্টিভ জবস মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন যে অমর কথাগুলো…


স্টিভ জবস যখন মারা যান তখন এ্যাপলের ব্যাংক একাউন্টে জমা ছিলো ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী। টেকনোলজির এই রাজপূত্র মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একেবারে অন্তিম মুহুর্তে জীবন সম্পর্কে কিছু অসাধারণ কথা বলেছিলেন-যা জাপানি, চায়নীজ, হিন্দি, উর্দু, আরবী, স্প্যানিশ, পর্তুগীজ, রুশ সহ প্রায় আঠারোটি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। শুধু তাই নয়- শিশুদের মানসিক উৎকর্ষতা বিধান এবং তাদের সুন্দর মনন গঠনের লক্ষে একাধিক ভাষায় স্টিভ জবসের এই অমর কথাগুলো সহ উনার জীবনী বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক দুনিয়ায় আমি সাফল্যের একেবারে সর্বোচ্চ চুড়োয় আরোহণ করেছি।যা আপনাদের কাছে সাফল্যের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।কিন্তু,এ কথা ধ্রুব সত্য কাজের বাইরে আমার সামান্যই আনন্দ ছিলো। সম্পদের প্রলোভনে বিভোর ছিলাম সারা জীবন। আজ মৃত্যুশয্যায় শুয়ে যখন জীবনটাকে দেখি-তখন আমার মনে হয়, আমার সব সম্মান, খ্যাতি আর অর্জিত সম্পদ আসন্ন মৃত্যুর সামনে একেবারেই ম্লান, তুচ্ছ আর অর্থহীন।এ্যাপলের বিশাল সাম্রাজ্য আমার নিয়ন্ত্রনে ছিলো-কিন্তু মৃত্যু আজ আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তি কবরের বিছানায় শুয়ে আছে সেটা আদৌ কোনো বড় ব্যাপার না। প্রতি রাতে নিজের বিছানায় শুয়ার আগে আমি কি করলাম -সেটাই আসল ব্যাপার। অন্ধকার রাতে জীবনরক্ষাকারী মেশিনের সবুজ বাতিগুলোর দিকে চেয়ে আমার বুকের গহীনে হাহাকার করে ওঠে। মেশিনের শব্দের ভিতরে আমি নিকটবর্তী মৃত্যু দেবতার নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারি। অনুধাবন করতে পারি-শুধু সম্পদ না, সম্পদের সাথে সম্পর্কহীন জিনিসেরও মানুষের অন্বেষণ করা উচিত।

বেকুবের মতো সম্পদ আহরণই সবকিছুই নয়- আরো অনেককিছু মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।আর তা হলো- মানুষের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করা,চিত্রকলার সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করা আর তারুণ্যে একটি সুন্দর স্বপ্ন নিজের হৃদয়ে লালন করা। শুধু সম্পদের পেছনে ছুটলেই মানুষ আমার মতো এক ভ্রান্ত মানুষে পরিণত হতে পারে। ঈশ্বর আমাদের সবার হৃদয়ে ভালবাসা অনুভব করার জ্ঞান দিয়েছেন।কেবলমাত্র এই নশ্বর দুনিয়ায় সম্পদের মোহে জড়িয়ে পড়ার জন্য নয়। এই যে মৃত্যু শয্যায় শুয়ে আছি।কই, সব সম্পদতো এই বিছানায় নিয়ে আসতে পারিনি। শুধু আজ সাথে আছে ভালোবাসা, প্রেম, মায়া, মমতার স্ম্বতিগুলোই । এগুলোই শুধু সাথে থেকে সাহস যোগাবে , আলোর পথ দেখাবে। ভালোবাসা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে- সম্পদ না খুঁজে ভালোবাসাও খোঁজে নিতে হয়। সম্পদ কভু শান্তি আনেনা।মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ আর ভালোবাসাই শান্তি আনে।পৃথিবীটাকে দেখো। শুধু সম্পদের পেছনে ছুটে হাহাকার করলে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবে না…

পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী বিছানা কি জানেন? তাহলো- হাসপাতালের মৃত্য শয্যা। আপনাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আপনি একজন গাড়ি চালক রাখতে পারেন। আপনার নিযুক্ত কর্মচারীরা আপনার জন্য অনেক টাকাই আয় করে দিবে।কিন্তু এটাই সবচেয়ে বড় সত্য গোটা পৃথিবী চষে, পৃথিবীর সব সম্পদ দিয়ে দিলেও একজন মানুষও পাবেন না যে আপনার রোগ বয়ে বেড়াবে।

বৈষয়িক যে কোনো জিনিস হারালে আপনি পাবেন। কিন্তু একটা জিনিসই হারালে আর পাওয়া যায়না তা হলো মানুষের জীবন। মানুষ যখন অপারেশান থিয়েটারে যায় তখন সে কেবলি অনুধাবন করে- কেন জীবনের মূল্যটা আগে বুঝিনি!! জীবনের যে স্টেজেই আপনি আজ থাকুন না কেন- ,মৃত্যু পর্দা আপনার জীবনের সামনে হাজির হবেই। সাঙ্গ হবে জীবন। তাই, এই নশ্বর জীবনের পরিসমাপ্তির আগে পরিবারের জন্য, আপনজনের জন্য, বন্ধুদের জন্য হৃদয়ে সবসময় ভালোবাসা রাখুন। নিজের জীবনটাকে ভালোবাসুন। ঠিক নিজের মতো করে অন্যকেও ভালোবাসুন।

=> Success Life Story : জীবনের সাত শিক্ষা: টনি ব্লেয়ার


টনি ব্লেয়ারের চমৎকার প্রেরণাদায়ক ভাষনের মূল শিক্ষা বদলে দিতে পারে আপনার জীবনের মোড়। উদ্যোক্তার খোঁজে পেইজ আপনাদের জন্য ভাষনটি প্রকাশ করছে। আপনার বন্ধুর জন্য লিখাটি শেয়ার করতে ভূল করবেন না। 

টনি ব্লেয়ারের জন্ম ৬ মে ১৯৫৩। তিনি লেবার পার্টির হয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কোলবাই কলেজের ২০১২ সালের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তব্য দেন

সভাপ্রধান, সম্মানিত অতিথি, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, কোলবাই কলেজে আসতে পারাটা আমার জন্য চমৎকার আনন্দের ও মর্যাদার ব্যাপার।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আমার জীবন থেকে শেখা সাতটি শিক্ষার কথা তোমাদের বলতে যাচ্ছি। তোমরা ইচ্ছা করলে এই শিক্ষাগুলো গ্রহণ করতে পারো, আবার নাও পারো। এগুলোর মধ্যে প্রথম শিক্ষাটি সরাসরি তোমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারণ, তোমরা এখনো এই বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা গ্রহণ করছ।

প্রথম শিক্ষা
বাঁচতে হলে শিখতে হবে। কখনো শেখা থামিয়ো না। সফল ব্যক্তিরা কখনো নির্বিঘ্ন খ্যাতি ও সৌভাগ্যের জন্য সফল হন না, বরং তাঁরা সফল হন ভালো কিছু করার অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা ও অপরিসীম কৌতূহলের জন্য। তাঁরা আত্মোন্নয়নের পথে বিরতিহীন নাবিক। তাই ব্যর্থতার ভয়ে ভীত হয়ো না। ভীত হও চেষ্টাহীন হতে।

দ্বিতীয় শিক্ষা
মুক্তমনা হও। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ে মুক্তমনা হওয়াটা ডান ও বাঁয়ের পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি পৃথিবীজুড়েই এই পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য দেখেছি উদারমনা ও অনুদারমনা ব্যক্তিদের মধ্যে। তাই আমার উপদেশ, বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ব্যাপারে দিলখোলা হও। কারণ, এই জিনিসগুলোই ইতিহাসের মধ্যে বিভক্তি এনেছে। তবে মুক্তমনা ব্যক্তিরা এসব উতরে যেতে পারে।

তৃতীয় শিক্ষা
ভালো কিছু দিলেই ভালো কিছু পাবে। অন্যের সেবা করার চেয়ে অধিকতর সম্মানজনক আর কিছুই নেই। কারণ, এটিই তোমাকে সবচেয়ে বেশি আত্মতৃপ্তি দেয়। সমব্যথী হতে পারাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তাই শুধুই প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়ো না, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনের কারণও খোঁজো। তোমার সামনে বেছে নেওয়ার অনেক কিছুই আছে।

চতুর্থ শিক্ষা
পরিবার, বন্ধুত্ব ও অন্যান্য ব্যাপারে গুরুত্ব দাও। তোমার আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুদের যত্ন নাও, ভালোবাসো। কারণ, পরিবার থেকে তুমি তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করেছ।

পঞ্চম শিক্ষা
নেতা হও, অনুসারী হয়ো না। সর্বোপরি একজন কেজো মানুষ হও, সমালোচক হয়ো না। মানুষের অগ্রগতি কখনোই বাচাল, অভিযোগকারী কিংবা হতাশাবাদীদের মাধ্যমে নির্মিত হয় না। অগ্রগতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায় পরিবর্তনকারীদের সাহসের মাধ্যমে। এই সাহস মানে ভয়ের অনুপস্থিতি নয়, বরং ভয়কে জয় করাই সাহস। আমার দেখা প্রায় সব কটি নেতার মধ্যেই একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সন্দেহ, অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও আত্মবিশ্বাসের চূড়ান্ত অভাব ছিল। কিন্তু তাঁরা সেসব জয় করতে পেরেছেন বলেই নেতা হতে পেরেছেন।

ষষ্ঠ শিক্ষা
আজকের পৃথিবী আগের তুলনায় অনেক বেশি যোগাযোগনির্ভর। এখানে মুগ্ধ করার মতো ও আন্দোলিত করার মতো অনেক কিছুই আছে। সুতরাং, এখনই সময় এই পৃথিবীকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখার। এই পৃথিবী হাত বাড়িয়ে আছে অনেক রোমাঞ্চ আর সম্ভাবনা নিয়ে। তাই আমি বলব, এই পৃথিবীর সুবিধাগুলো লুফে নাও। দেখো এই বিশ্বকে, দেখো এর সম্ভাবনাগুলোকে।

সপ্তম শিক্ষা
এটা নজিরবিহীন সুযোগের এক অভাবনীয় সময়। এটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারও সময়। তবে এই চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ গ্রহণ করতে গিয়ে কেবল মুনাফার দিকটাই ভেবো না। কারণ, জীবনে শুধু মুনাফাই মুখ্য নয়, আমাদের জীবনযাপন নির্ভর করে কিছু মূল্যবোধের ওপর। এই মূল্যবোধগুলো হচ্ছে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও প্রতিটি ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের সমতা। 

অতএব, তোমাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, আশাবাদী হও। প্রতিটি সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠো একেকটি লক্ষ্য নিয়ে। কারণ, পৃথিবী তোমার কাছে উন্মুক্তই আছে, যদি তুমি তার কাছে নিজেকে মেলে ধরতে পারো।
^