নিউজার্সির অরেণ্জ শহরে -একটি ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার। ফ্যাক্টরীর মালিক বলতে গেলে তাঁর জীবনের সমস্ত সন্চয় ব্যয় করেছেন ফ্যাক্টরিটি তৈরীর পেছনে। মালিক ফ্যাক্টরীর বাইরে দাঁড়িয়ে আগুনের শিখা দেখছেন। আর মিটিমিটি হাসছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ২৪ বছরের ছেলে চার্লস। ভদ্রলোক, ছেলেকে হাসতে হাসতে বললেন- যা তোর মাকে তাড়াতাড়ি ডেকে নিয়ে আয়। এমন সুন্দর আগুন একসাথে দেখার সৌভাগ্য মানুষের খুব কমই হয়। মা এসে দেখলেন- তার স্বামীর মুখে হাসি আর পুত্রের চোখে কান্না।
পরদিন ভোরে স্বামী আর স্ত্রী একসাথে হাঁটতে বেরিয়েছেন। একসময় স্ত্রী স্বামীকে বললেন- শুধু তোমার ফ্যাক্টরীই পুড়েনি, তোমার সারা জীবনের সন্চয়ও একসাথে পুড়ে ছাই, ভস্ম হয়ে গেছে। তোমার বিশ্বাস ছিলো ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণরুপে ফায়ারপ্রুফ। কোনোদিন আগুনে কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। তাই ভালোভাবে ইন্সুরেন্স না করায় কোনো টাকাও ফেরত পাবেনা। এসব কিছু জানার পরও তুমি এরকম শিশুর মতো হাসছো?
ভদ্রলোক বললেন- কারখানা পুড়েছে কই? আমিতো কোথাও কোনো পুড়া কারখানা দেখলাম না। তবে হ্যাঁ, দেখেছি শুধুই আগুণ।
তোমার কি রাতে ভালো ঘুম হয়নি?সবকিছু হারিয়ে তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? নিজের চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলে পুড়ে ছাই, ভস্ম হয়ে গেলো পুরো একটা কারখানা। আর তুমি বলছো-কোনো কারখানাই পুড়েনি। তুমি ঠিক আছোতো?
হ্যাঁ, রাতে খুব শান্তির ঘুম হয়েছে। আমিও পুরোপুরিই ঠিক আছি। আর ঠিক আছি বলেই বুঝতে পারছি- আগুনে কোনো কারখানা পুড়েনি, পুড়েছে শুধু আমার অহঙ্কার, পুড়ে শেষ হয়ে গেছে আমার জীবনের সব ত্রুটি,বিচ্যুতি আর ভুল। একটা কারখানা পুড়েছে, আরেকটা কারখানা তৈরী হবে তাতে কোনো দুঃখ নাই। তারচেয়ে বরং খুশী এই জন্য যে- আমার অহঙ্কার, ত্রুটি, বিচ্যুতি সব পুড়ে গিয়ে স্রষ্টা আমাকে নতুনভাবে আবারো জীবন শুরু করে দেয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
ফ্যাক্টরীর মালিক এই ভদ্রলোক ছিলেন পৃথিবীর পাঁচজন সেরা বিজ্ঞানীর একজন টমাস আলভা এডিসন। আর যখন তিনি নতুন করে পুনরায় জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, তখন তাঁর বয়স ছিলো ৬৭। উদ্যম, প্রেরণা আর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরায় জীবন শুরু করার মতো মোটিভেশনের এমন অনুপম দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে?


No comments:
Post a Comment